এত ভাল তবুও খারাপ তামিম!

212

আলোকিত সকাল ডেস্ক

তামিম ইকবাল ২০১৫ সালের পর থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। আর ব্যাটিং গড়ের দিক দিয়েও ছিলেন বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত সবার ওপরেই। তবুও তার র‍্যাংকিং ২৩, রেটিং পয়েন্ট ৬৭৫ (বিশ্বকাপের আগে)। সেখানে মুশফিক র‍্যাংকিংয়ে তামিমেরও আগে (২০)। এত ভাল খেলেও কেন তামিম মুশফিকের পেছনে? কেন তামিম সেরা দশ ব্যাটসম্যানদের তালিকায় প্রবেশ করতে পারেননি শেষ চার বছরে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের র‍্যাংকিং নির্ভর করে নানান শর্তের ওপর যেমন,

প্রতিপক্ষ বোলারের র‍্যাংকিং। ওপরের র‍্যাংকিংয়ের বোলারের বিপক্ষে রান করলে বেশি পয়েন্ট পায় ব্যাটসম্যানরা।
দলের মোট রানের তুলনায় ওই নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যান কত শতাংশ রান করেছেন।
ওই নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যানের রান দলকে জেতাতে কতটা ভূমিকা রেখেছে। জয়ী ম্যাচে বেশি রান করলে সেখানে বোনাস রেটিং পয়েন্টও মেলে ব্যাটসম্যানের।
র‍্যাংকিংয়ে ওপরের দলের বিপক্ষে রান করলে রেটিং বেশি পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আফগানিস্তানের সাথে ১০০ রান, অস্ট্রেলিয়ার সাথে ৬০ রানের সমান হতে পারে।
স্ট্রাইক রেটটাও ব্যাটসম্যানদের র‍্যাংকিংয়ে প্রভাব রাখে। একজন ব্যাটসম্যান ১৫০ বল মোকাবিলা করে ১০০ রান করার থেকে ১০০ বলে ১০০ রান করলে সেই ইনিংসের রেটিং পয়েন্টও বেশি।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত তামিম ইকবালের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৬৭৫, সেখানে রস টেইলরের ৮৩১, রোহিত শর্মার ৮৩৯ এবং বিরাট কোহলির ৮৯০। আর এখানেই পরিষ্কার হচ্ছে যে তামিমের করা রান দলের জয়ের ক্ষেত্রে কম ভূমিকা রেখেছে অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের থেকে।

তবে শেষ ৪ বছরে তো বাংলাদেশ অনেক ম্যাচ জিতেছে এবং বাংলাদেশের জয়ের ম্যাচেও তামিম দারুণ কিছু ইনিংস খেলেছে। এ কারণে তামিমের আরও কিছু পরিসংখ্যান দেখে আসা যাক।

বিভিন্ন দেশের বিপক্ষে তামিমের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন ব্যাটিং গড়:
প্রতিপক্ষ ইনিংস মোট রান ব্যাটিং গড় স্ট্রাইক রেট
অস্ট্রেলিয়া ৯ ৩৪৩ ৩৮.১১ ৮২.৪৫
আফগানিস্তান ৫ ২৭৩ ৫৪.৬০ ৭৮.৬৭
ইংল্যান্ড ১৪ ৪৮৮ ৩৪.৮৬ ৮৮.৮৯
ভারত ১৮ ৫৯৬ ৩৩.১১ ৮৪.৯০
নিউজিল্যান্ড ২৩ ৫৬৪ ২৪.৫২ ৬৬.৫১
স্কটল্যান্ড ১ ৯৫ ৯৫ ৯৫
দক্ষিণ আফ্রিকা ১২ ৩০৩ ২৭.৫৫ ৭২.৬৬
শ্রীলঙ্কা ২০ ৬৪৫ ৩৩.৯৫ ৭৬.০৬
উইন্ডিজ ২৬ ৯৩৩ ৪০.৫৭ ৭৬.২৩
পাকিস্তান ১৭ ৬৮৪ ৪২.৭৫ ৮৫.১৮

এছাড়াও জিম্বাবুয়ের সাথে ৩৭ ব্যাটিং গড় তামিমের। অন্যদিকে কানাডা এবং বার্মুডাকে এই পরিসংখ্যানের বাইরে রাখা হয়েছে। এই দু’দলের বিপক্ষে গেল কয়েক বছরে ম্যাচ খেলেনি তাই। যদিও এই দুই দলের বিপক্ষে তামিমের ব্যাটিং গড় যথাক্রমে ১১ এবং ৬।

দেশের মাটিতে তামিম বরাবরই অনবদ্য কিন্তু বিদেশের মাটিতে নিজেকে ঠিক মেলে ধরতে সব সময়ই ব্যর্থ তিনি। বিদেশের মাটিতে তামিমের পারফরম্যান্স:
প্রতিপক্ষ ইনিংস মোট রান ব্যাটিং গড় স্ট্রাইক রেট
অস্ট্রেলিয়া ৭ ১৩০ ১৮.৫৭ ৭৩.৪৫
ইংল্যান্ড ১৫ ৫৯০ ৩৯.৩৩ ৮১.০৪
আয়ারল্যান্ড ১০ ৪৫৪ ৫০.৪৪ ৮০.০৭
নিউজিল্যান্ড ১৪ ৪০৮ ২৯.১৪ ৬৯.৭৪
পাকিস্তান ১০ ৩০৪ ৩০.৪০ ৭৪.৬৯
দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ ৮৮ ২৯.৩৩ ১০২.৩৩
শ্রীলঙ্কা ১০ ৪১৮ ৪৬.৪৪ ৮২.৭৭
উইন্ডিজ ২০ ৬৫৮ ৩৪.৬৩ ৭১.৫২

অন্যদিকে দেশের মাটিতে এখন পর্যন্ত তামিম ইকবাল খেলেছেন ৯৪ টি ইনিংস। ব্যাট হাতে রান করেছেন ৩২৬০ রান। দেশের মাটিতে তামিমের ব্যাটিং গড় ৩৬.৬৩ আর স্ট্রাইক রেট ৭৮.৯৯।

তামিম ইকবাল কম স্ট্রাইক রেটে খেলেন এতো জানা সকলের। তবে ঠিক কতটা ধীর গতির ব্যাটসম্যান তামিম? ২০১৮ সাল থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটের সেরা দশ দলের মধ্যে সব থেকে কম স্ট্রাইক রেটে খেলেন তামিম ইকবাল। অথচ তামিমের নামের সাথে আছে এক মিথ, তিনি নাকি হার্ডহিটার ব্যাটস্ম্যান। এবং সেটাও সমর্থন দিচ্ছে না তার পরিসংখ্যান।

২০১৩ এবং ২০১৪ তে তামিমের স্ট্রাইক রেট ছিল ৬৬ এবং ৬৭। শুধুমাত্র ২০১০ সালে তামিমের স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৬, এছাড়া বাকি সব গুলো বছরেই স্ট্রাইক রেট ৮০ এর কাছাকাছি ঘুরঘুর করেছে। ২০০৭ সালে ছিল তা আরও কম মাত্র ৬২।

বিশ্বকাপে তামিমের পারফরম্যান্স তো আরও নিচের দিকে। ২০০৭ বিশ্বকাপ দিয়ে অভিষেক ঘটে মহারণের ময়দানে, এরপর ঘরের মাঠে ২০১১, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে নিজের তৃতীয় এবং ইংল্যান্ডে নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলেছেন তামিম। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি একটি বিশ্বকাপেও।

চার বিশ্বকাপে তামিমের ব্যাটিং পারফরম্যান্স:
বিশ্বকাপ ইনিংস মোট রান ব্যাটিং গড় স্ট্রাইক রেট
২০০৭ ৯ ১৭২ ২৩.৬২ ৭৬.৯৬
২০১১ ৬ ১৫৭ ২৬.১৭ ৮৯.২০
২০১৫ ৬ ১৫৪ ২৫.৬৭ ৭৫.৮৬
২০১৯ ৮ ২৩৫ ২৯.৩৮ ৭১.৬৫

পরিসংখ্যান বলে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপই তামিমের ক্যারিয়ারের সেরা বিশ্বকাপ। ব্যাটিং গড় আগের তিন বিশ্বকাপের থেকে বেশি আর রান সংখ্যাও অন্য সবগুলো বিশ্বকাপ থেকেও বেশি। নিম্নমূখী কেবল তামিমের স্ট্রাইকরেট।

তবে কি বড় আসর আসলেই তামিম হারিয়ে ফেলেন নিজেকে? নতুন কাউকে ঘিরে কি বড় আসরের স্বপ্ন দেখবে বাংলাদেশ নাকি তামিমই থাকবেন? জবাবটা দিতে পারবেন কেবল ক্রিকেট বোর্ডই।

বাংলাদেশের দর্শকরা বিশ্বকাপের সব ম্যাচ অনলাইনে কোনো ধরনের সাবস্ক্রিপশন ফি বা চার্জ ছাড়াই দেখতে পারবেন র‍্যাবিটহোলের ওয়েবসাইট www.rabbitholebd.com-এ। এছাড়া র‍্যাবিটহোলের অ্যাপেও দেখা যাবে প্রতিটি ম্যাচ। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/UNCWS2 (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে। তাছাড়া আইওএস ব্যবহারকারীরা ডাউনলোড করতে পারবেন https://goo.gl/vJjyyL (শুধুমাত্র বাংলাদেশ) এই লিংকে ক্লিক করে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments