কোভিডে টরন্টোয় বন্দুক সন্ত্রাস বেড়েছে,সতর্কতার পরামর্শ

8

নতুনদেশ ডটকম: কোভিড মহামারীতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় নাগরিকদের মানসিক সমস্যার পাশাপাশি  মাদকাসক্তি  এবং  বন্দুক সন্ত্রাসের পরিমান আশংকাজনক  বেড়ে গেছে। তরুনরা  নানা ধরনের গ্যাং এ জড়িয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে নির্ঝঞ্জাট মানুষেরাও সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন। কানাডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর টরন্টোর এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে ‘শওগাত আলী সাগর লাইভের’ আলোচনায়।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সম্প্রচারিত ‘টরন্টোয় কেন এতো বন্দুক যুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা টরন্টোয় ক্রমবর্ধমান বন্দুক সন্ত্রাস, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তার প্রতিক্রিয়া এবং তাদের করণীয় নিয়ে আলোকপাত করেন।

আলোচকরা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুনদের  গ্যাং সংস্কৃতি থেকে দুরে রাখতে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, যে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার মতো সম্পর্ক সন্তানদের সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে প্রচারিত লাইভ এই আলোচনায় অংশ নেনঅটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ ড. শিশির শাহন্ওয়াজ, বাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী সাজ্জাদ আলী এবং ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মুনতাকা আহমেদ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. শিশির শাহন্ওয়াজ বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, নানা রকমের সুযোগ সুবিধায় অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসবাদের উসকানি দেয়। টরন্টোয় অর্থনৈতিকভাবে চাপে থাকা কমিউনিটি এবং তাদের আবাস  এলাকাগুলোতেই সন্ত্রাসী তৎপরতা বেশি হচ্ছে।

বনন্দুকের সহজলভ্যতাকে টরন্টোয় সন্ত্রাসের অন্যতম একটি কারন হিসেবে উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদ ড. শিশির বলেন, প্রতিবেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধপথে নানা ধরনের বন্দুক কানাডায় চলে আসে। এই সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বন্দুক সন্ত্রাস বন্দ করা কঠিন হবে।

তিনি  সন্ত্রাস বন্ধে ফেডারেল, প্রভিন্সিয়াল এবং মিউনিসিপ্যালিটি সরকারের যৌথ পদক্ষেপের তাগিদ দিয়ে বলেন, তরুনদের মানসিক স্বাস্থ্যসহ কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিকভাবে বন্দুক সন্ত্রাস বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী সাজ্জাদ আলী বিগত কয়েক বছরের সহিংসতার তথ্যউপাত্ত তুলে ধরে বলেন, টরন্টো এখন রীতিমতো একটি আতংকের শহরে পরিণত হয়েছে। কারো সাতে পাঁচে নাই- এমন সাধারন  মানুষেরা পর্যন্ত সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

তিনি শহরের রিজেন্ট পার্কে গত সপ্তাহে তিনজন বাংলাদেশি কানাডীয়ানের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা সারাদিন কাজ করে নিজের বাসার পার্কিং লটে গল্প করার সময় সন্ত্রাসীদের এলাপাতারি গুলির শিকার হয়েছেন।

কোভিডে সরকারের অগ্রাধিকার পাল্টে গেছে বলে মত দিয়ে সাজ্জাদ আলী বলেন, সরকার মাহামর নিয়ন্ত্রণের দিকে পুরো মনোযোগ দেয়ায় এবং সব ধরনের আর্থিক সুবিধা সেদিকে নিয়ে যাওয়ায় সন্ত্রাস দমনে মনোযোগী হতে পারেনি। ফলে সহিংসতা বেড়েছে। তিনি সন্ত্রাস দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয়  এবং শ্বোতঙ্গ উগ্রপন্থীরা যাতে  সশস্ত্র সহিংসতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিক কড়া নজর দিতে হবে।

ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মুনতাকা আহমেদ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, মানসিক অসুস্থতা, গ্যাং, সন্ত্রাস এসব নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির অভিভাবকরা কথা বলতে চান না। তারা মনে করেন- এগুলো অন্য কমিউনিটির বিষয়, আমাদের কমিউনিটিতে আসবে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- এগুলো কমিউনিটি বা গোত্র বর্ণ দেখে আসে না।

সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে তরুন  ছাত্র প্রতিনিধি মুনতেকা আহমেদ বলেন, নিজের ঘরে, নিজের কমিউনিটিতে নির্ভরযোগ্য বন্ধু খুঁজে না পেলে একজন তরুন তরুনী বাইরে বন্ধু খুঁজতে বেরোয়। এই সময়টায় তারা খারাপ বন্ধত্বের  সঙ্গে জড়িয়ে পরে।

তিনি তরুনদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, তরুন- তরুনীদের উচিৎ- নিজের ঘরে সব কথা বলার মতো পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেয়া। অভিবাবকরা  প্রতিপক্ষ নন, সন্তানের মঙ্গল কামনা থেকেই সন্তানদের প্রতি নিয়ন্ত্রনমূলক আচরণ করেন- এটি মাথায় নিয়ে অভিবাবকদের সাথে আলোচনা শুরু করলে অনেক সমস্যার সমাধান  হয়ে যায়।

‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর তার আলোচনায় বলেন, শহরে সমস্যা দেখা দিলে কোনো কমিউনিটি তা থেকে রেহাই পায় না। রিজেন্ট পার্কে তিন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তার প্রমাণ। তিনি বলেন, টরন্টোয় ক্রমবর্ধমান বন্দুক সন্ত্রাসের ব্যাপারে বাংলাদেশি কমিউনিটিরও সচেতন হতে হবে এবং এ নিয়ে কথা বলতে হবে।

Facebook Comments