ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন রাজ্জাক-নাফীস

7

দেশবার্তা নিউজ:ইচ্ছে ছিল আরও বেশ কিছু দিন খেলে যাওয়ার; কিন্তু জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার অনিশ্চয়তায় শেষপর্যন্ত ফর্ম থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেটকে বিদায় বলতে হচ্ছে দেশের অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক ও শাহরিয়ার নাফীসকে।

শুক্রবার বিকালে কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর নিশ্চিত করা হয়।

দ্বি-স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক প্যানেল করার প্রতিবাদে ২০১৬ সালে পদত্যাগ করেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। তারপর থেকেই তিন সদস্যের নির্বাচক প্যানেলের জন্য নির্বাচক খুঁজে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তখন থেকেই মিডিয়ায় চাউর হয় আব্দুর রাজ্জাককে নির্বাচক প্যানেলে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি এত তাড়াতাড়ি এ দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে গত বছরের মার্চে মোহামেডানের হয়ে ঢাকা লিগে খেলেন আব্দুর রাজ্জাক। করোনায় ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ থাকায় অনিশ্চিত হয়ে যায় রাজ্জাকের ক্রিকেট ক্যারিয়ার। এরই মধ্যে ক্রিকেট বোর্ড থেকে নির্বাচক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব পান তিনি। সেই প্রস্তাবে সায় দিয়ে গত মাসে জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব নেন রাজ্জাক।

ফারুক আহমেদের পদত্যাগের পর তিন সদস্যের নির্বাচক প্যানেলের কাজ সামাল দিয়ে আসছিলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমন। ২৭ জানুয়ারি প্যানেলের তৃতীয় নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব নেন আব্দুর রাজ্জাক।

নির্বাচক হিসেবে রাজ্জাক দায়িত্ব নেয়ার পরই তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অবসর প্রসঙ্গে সামনে আসে। তারপর থেকেই গুঞ্জন রটে অবসরে যাচ্ছেন দেশের সাবেক তারকা স্পিনার রাজ্জাক। অবশেষে ‍শুক্রবার জানা গেল শনিবার ব্যাট-প্যাড তুলে রাখতে যাচ্ছেন তিনি।

তবে রাজ্জাকের সঙ্গে ক্রিকেটকে গুডবাই জানাবেন দেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসও। রাজ্জাকের মতো করোনা শুরুর আগে ঢাকা লিগে খেলেছেন নাফীস। কিন্তু করোনায় ঘরোয়া ক্রিকেট মাঠে গড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় ক্রিকেট ব্যাট রেখে ধারাভাষ্যে মন দেন শাহরিয়ার নাফীস। ধারাভাষ্যে পুরোপুরি মন দিতেই হয়তো ক্রিকেটকে বিদায় বলতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

আব্দুর রাজ্জাক জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ২০০ উইকেট শিকারি বোলার। ক্যারিয়ারে ১৩ টেস্টে শিকার করেন ২৮ উইকেট। আর ১৫৩ ওয়ানডেতে শিকার করেন ২০৭ উইকেট। আর ৩৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে শিকার করেন ৪৪ উইকেট। তবে জাতীয় দলের চেয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে সফল রাজ্জাক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের হয়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৬৩৪ উইকেট শিকার করেছেন। আর লিস্ট-এ ক্রিকেটে শিকার করেন ৪১২ উইকেট।

শাহরিয়ার নাফীস দেশের হয়ে ২৪ টেস্টে এক সেঞ্চুরি ও ৭ ফিফটিতে সংগ্রহ করেন ১ হাজার ২৬৭ রান। আর ৭৫ ওয়ানডেতে ৪টি সেঞ্চুরি ও ১৩টি  ফিফটির সাহায্যে সংগ্রহ করেন ২ হাজার ২০১ রান। দেশের হয়ে ১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে সংগ্রহ করেন ২৫ রান।

Facebook Comments