খুনি নয়ন খুন হলেও বন্দুকযুদ্ধই সমাধান নয়

223

পীর হাবিবুর রহমান

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে অসহায় নববধূ মিন্নির আকুতি ও প্রতিরোধের মুখে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় দা দিয়ে কুপিয়ে ২৫ বছরের তরুণ রিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। দুজন খুনি তাদের উন্মত্ত জিঘাংসায় এই হত্যাকা- যখন চালিয়েছে তখন তাদের একদল সহযোগী পাহারা দিয়েছে। এই খুনের বদলে খুনের রীতিতে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে খুনি নয়ন নিহত হওয়ার সংবাদ মঙ্গলবার সকালে ঘুম ভাঙতেই দেশের মানুষ শুনেছেন। তার নিথর দেহ পড়ে থাকার ছবি গণমাধ্যম থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন। অনেকেই খুশি হয়েছেন। বরগুনায় মানুষ লাইন ধরে নিহত খুনি নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখেছে। এখান থেকে এই শিক্ষাই দেওয়া হয়েছে, খুন করে পার পাওয়া যাবে না বা খুনির রেহাই নেই।

বরাবর বলে আসছি, যতক্ষণ না আমাদের গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আদর্শিক রাজনীতি তার ঐতিহ্যের গতিময়তা ফিরে পাবে, সংবিধান ও আইন যতক্ষণ না কার্যকর হবে, যতক্ষণ না মূল্যবোধহীন দুর্নীতিগ্রস্ত পাপাচার লোভ-লালসা থেকে সমাজ মুক্ত না হবে, ততক্ষণ সামাজিক অপরাধ বর্বরতা ও অন্যায় প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। একটা সময় ছিল, রাজনীতি যেমন ছিল আদর্শিক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর দায়িত্বশীল, সমাজ ছিল সংঘবদ্ধ এবং সামাজিক দায়িত্ব কখনই এড়িয়ে যেত না। অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রতিরোধে এগিয়ে আসত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাত আর অপরাধীর কঠিন সাজা হতো। কিন্তু যখন অপরাধীরা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় দানবের রূপ নিতে থাকল, সাক্ষীর অভাবে কিংবা ভয়ের সমাজে অর্থ ও ক্ষমতার দম্ভে বারবার বেরিয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকল তখন সমাজও বোধহীন অসাড়ে পরিণত হলো। এদের প্রতিরোধ করা দূরে থাক, প্রকাশ্য দিবালোকে চোখের সামনে মানুষের ওপর সন্ত্রাসীদের আক্রমণ, ছিনতাইকারীদের থাবা, খুনিদের আঘাত, ধর্ষক ও যৌন নিপীড়কদের উন্মাদনা দেখেও প্রতিরোধে এগিয়ে আসার সাহস হারিয়ে ফেলল। ভয়ের মাকড়শার জালে আটকা পড়া আজকের সমাজ সেদিন দিনদুপুরে বরগুনা সরকারি কলেজের কাছে মিন্নির আকুতি সত্ত্বেও বেপরোয়া খুনি নয়ন বন্ডের দায়ের কোপের মুখে রক্তাক্ত রিফাতের মৃত্যুর বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখেও একদল তরুণ বা মানুষ ধর ধর বলে এগিয়ে আসেনি। ভয়ের সমাজ থেকে বেরিয়ে আসতে না পারার এই দায় আজকের অনুভূতিহীন সমাজের ভয়াবহ চিত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।

এক দিন এই দেশের ব্যবসায়ী সমাজসহ সবকিছু একেকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দখলে গিয়েছিল। এক দিন সন্ত্রাসীদের কাছে প্রশাসন থেকে ব্যবসায়ী এমনকি রাজনীতিবিদরাও অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। সেই সময় সব মানবিকতা লঙ্ঘন করে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রমরমা বাণিজ্যে মানুষকে অপহরণ নয়তো হত্যা মহোৎসবে মেতে উঠেছিল। এদের রুখতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে সময়ের অনিবার্য ফসল হয়ে এসেছিল র‌্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাব। র‌্যাবের ঝালে ও ক্রসফায়ারে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাম্রাজ্য ভেঙেই যায়নি, ব্যবসায়ীসহ সমাজের মানুষ চাঁদাবাজির অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়। সন্ত্রাস আইনের কাছে পরাস্ত হয়। অনেক মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দল শুরুতে বিরোধিতা করলেও বিদ্যমান বাস্তবতায় বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকা-কে মেনে নিতে বাধ্য হয়। রাষ্ট্র যেখানে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছিল, যেখানে পদে পদে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছিল, সেখানে মানুষ ও সমাজের কল্যাণে সমাজবিরোধীদের ক্রসফায়ার ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। পরবর্তীতে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের আগ্রাসন রুখতে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের ধারাবাহিকতা সাফল্য আনলেও অনেক কর্মকান্ড নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত হওয়ায় বিতর্কের যেমন জন্ম নেয়, তেমনি তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। আইনের চোখে তারাও অপরাধী হিসেবে শাস্তি ভোগ করছেন।

ফেনীতে নুসরাতকে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সিরাজ-উদ-দৌলা স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসীদের দিয়ে আগুন ধরিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পার পেতে চেয়েছিল। স্থানীয় পুলিশ খুনিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু গোটা দেশের মানুষ সবার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলার কারণে সেখানেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কঠোর মনোভাব দেখাতে হয়। দিতে হয় কঠিন নির্দেশ। অপরাধীরাই, খুনিরাই আইনের আওতায় আসেনি, শেষ পর্যন্ত ব্যারিস্টার সুমনের মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমকেও গ্রেফতার করতে হয়েছে। উচ্চ আদালত পর্যন্ত একেকটি অপরাধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিতে বাধ্য হচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা প্রশংসনীয়। অনেক অপরাধে অপরাধী দুর্নীতিবাজ ও পুলিশ বিভাগের কলঙ্ক ডিআইজি মিজানকেও আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। কথায় বলে, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। ক্ষমতার দম্ভ উন্নাসিকতা বেআইনি কর্মকান্ড ও পাপাচার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েও যে রক্ষা করা যায় না, সেটি বারবার প্রমাণ হচ্ছে। আজ হোক কাল হোক অপরাধীকে সাজা ভোগ করতেই হয়। অনেক খুনের রহস্যের কিনারা না হলেও নুসরাত হত্যাকান্ডের অপরাধীরা এখন বিচারের আওতায়। সাক্ষ্যপ্রমাণের কারণে আইনের ফাঁকগলে যাতে তারা সর্বোচ্চ শাস্তি থেকে মুক্তি না পায়, সেটি দেখার দায়িত্ব সবার। বরগুনায় রিফাত হত্যাকান্ডের দুই খুনিসহ তাদের সহযোগীদের পরিচয় এবং তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের এবং অন্যান্য পূর্বের অপরাধ একে একে বেরিয়ে আসছিল। কিন্তু খুনিদের আড়াল করতে খুনি নয়নের সঙ্গে হাতের মেহেদির রং শুকিয়ে যাওয়ার আগেই প্রকাশ্য দিনদুপুরে চোখের সামনে নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নির চরিত্র নিয়ে একদল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক মতান্ধরা তৎপর হয়ে উঠেছিল। মিন্নি বারবার বলছিল, সে শুধু নিহত রিফাতকেই দুই বছর প্রেম করে বিয়ে করেছিল।

আর খুনী নয়ন তার জীবন অতিষ্ঠ করেই তুলেনি, তার ভাই বোনকে হত্যার হুমকি দিয়ে অস্ত্রের মুখে তার সই নিয়েছিল। সেখানে খুনিকে রেখে একদল ঘাতক নয়নের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের তথাকথিত কাবিননামা নিয়ে হৈচৈ শুরু করেছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে পুলিশের কর্মকর্তারা বারবার বলছিলেন, চিহ্নিত ১৩ জন যে কোনো সময় গ্রেফতার হবে। এই হত্যাকান্ড কোনো গোপন হত্যাকান্ড ছিল না। এই নৃশংস হত্যাকা- প্রকাশ্য দিনদুপুরে রাষ্ট্র সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে দেশের আইনি বিধিবিধানকে পায়ের নিচে ফেলে রোমহর্ষকভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সেই দৃশ্য খুনিদের ছবিসহ ভাইরাল হওয়ায় গোটা দেশ দেখতে পেরেছে। যারা সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দিতে চান, তারা হয় জানেন না অথবা অনেক অপরাধ যেমন স্মার্টফোন ও ফেসবুকের সুবাদে ডিজিটাল বাংলাদেশের সম্মুখে চলে আসছে, সেটি তারা চান না। অপরাধ আড়াল করতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে ওকালতি করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করে ছড়িয়ে দেওয়া যেমন সচেতন মানুষের দায়িত্ববোধ, তেমনি এই ধরনের অপরাধে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কল করা ও প্রতিরোধে এগিয়ে আসাও নৈতিক দায়িত্ব।

এক সময়ের জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজ বা চলচ্চিত্র জেমস বন্ড ০০৭ ব্যাপক পাঠক ও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই রহস্য গোয়েন্দার নায়ক না হয়ে নয়ন একজন জিঘাংসা চরিত্রের খুনি সন্ত্রাসী হয়েও তার নামের সঙ্গে বন্ড ০০৭ যুক্ত করেছিল। একটি সন্ত্রাসী দল তৈরি করেছিল। এর আগেও তার নামে অনেক অপরাধে মামলা হয়েছে। রিফাত হত্যাকান্ডের ঘটনায় কেন তাকে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হতে হলো এটি একটি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। সব অপরাধীর প্রশ্নে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ যুক্তিসঙ্গত কি না সমাজপতিদের, রাষ্ট্রপরিচালনায় যুক্ত দায়িত্বশীলদের এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে। যত্রতত্র ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে ছ্যাচড়া পর্যায়ের খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিহত হওয়ার সংবাদ এলে সমাজে এক সময় এই শক্তিশালী অস্ত্রটিও ভোঁতা হয়ে যাবে। এটিকেও অপরাধীরা স্বাভাবিক বলে গ্রহণ করে নেবে। খুনি নয়ন পুলিশের জালের মধ্যেই যখন ছিল, তখন তাকে গ্রেফতার করে তার সব সহযোগীকে ধরে এনে রিমান্ডে জানা যেত, তাদের গডফাদারদের নাম। তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকদের প্রশ্রয়ের উৎস সম্পর্কে। তাদের অপরাধের বিস্তর কাহিনী হয়তো আরও বেরিয়ে আসত। খুনি নয়নের বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার সুবাদে সেই পথ অনেকটাই শিথিল হয়ে গেল। ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধই সব সময় সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে হলে আদর্শিক রাজনীতির পথে অশান্ত অস্থির সমাজকে মূল্যবোধের ধারায় ফিরিয়ে এনে, ঘুষ, দুর্নীতি, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে সব রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রতিহিংসামুক্ত হয়ে আইনের কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি। আইনেরও প্রয়োজনীয় সংস্কার করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। অপরাধীরা যাতে অর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে বের হয়ে যেতে না পারে সেই পথ রুদ্ধ করে দিতে হবে।

খুনি নয়ন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার সংবাদ যখন ছড়িয়ে পড়েছে তার আগেই আরেকটি ভিডিও ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তোলপাড় করেছে। সেটি হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ে যুবলীগের একজনকে তার প্রতিপক্ষ দলীয় ক্যাডাররা দিনদুপুরে গলিপথে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে ভ্যান চালক শাহীনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। তার অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। মঙ্গলবার সকালেই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দায়ের কোপে স্বামীর হাতে স্ত্রী নিহতের খবর ছড়িয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় এক ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করে ভিডিও করেছে সন্ত্রাসীরা। গোটা সমাজে অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মাদ্রাসার আলেম শিক্ষকের যৌন বিকারগ্রস্ততা থেকে বা যৌন সন্ত্রাস থেকে রেহাই পাচ্ছে না ছাত্র-ছাত্রীরা। তেমনি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত বেসরকারি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনকি স্কুল কলেজের ছাত্রীরা কখনো শিক্ষক কখনো বখাটে তরুণদের যৌন হয়রানি থেকে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জে একজন শিক্ষক ব্ল্যাকমেইল করে ২০ জনেরও বেশি ছাত্রীকে একের পর এক ধর্ষণ করেছে। অভিভাবক ও সমাজ প্রতিবাদে রুখে না দাঁড়ালে ধর্ষক দুই শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা দূরে থাক খবরই জানত না কেউ।

গোটা দেশে এখন রাজনীতিতে আদর্শ নির্বাসনে। ব্যাংক লুটেরা, অর্থ পাচারকারী, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, খুনি ধর্ষকদের বেপরোয়া উল্লাস চলছে। বাঙালি জাতির মহত্তম নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবনের ১৩টি বছর কারাগারে কাটিয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশ এই নষ্ট অভিশপ্তদের হতে পারে না। দেশজুড়ে যেমন হরিলুট চলতে পারে না, তেমনি খুন ধর্ষণ রাহাজানি সন্ত্রাস চলতে পারে না। এসব অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অপরাধীদের রাজনীতি ও প্রশাসন পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারে না। আজ পর্যন্ত এত অপরাধী বন্দুকযুদ্ধে বা ক্রসফায়ারে নিহত হয় কিন্তু বেদনার সঙ্গে বলতে হয়, গরিব অপরাধীকে একচোখে আর ধনাঢ্য অপরাধীকে আরেকচোখে দেখার নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আইনের চোখে অপরাধীর কোনো দল নেই যেমন, তেমনি তার নেই কোনো জাতপাত। ধনী-গরিব শ্রেণি বৈষম্য থাকা উচিত নয়। আজ পর্যন্ত ব্যাংক লুটেরা, অর্থ পাচারকারী বা শেয়ার লুটেরাদের ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হতে দেখা দূরে থাক, কারাগারে যেতেও দেখা যায় না। অর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা সব অপরাধীদের যে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদের চেইন ভেঙে দিতে হবে। সমাজের সব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশ অর্থনীতিতে, উন্নয়নে মহাসড়কে দ্রুত গতিতে ছুটবে অন্যদিকে একদল ঘুষখোর, লুটেরা, খুনি, ধর্ষক ও যৌন নিপীড়ক সমাজকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে এমনটি হতে পারে না। সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ যেতে পারেন না। তাই সব অপরাধী বা দুর্বৃত্তের কবল থেকে দেশের অর্থনীতি রাজনীতি ও সমাজকে মুক্ত করে আইনের শাসন বা সুশাসন নিশ্চিত করে মানুষের আকাক্সিক্ষত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। কেবল ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। ষূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিনি।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments