গোপালগঞ্জে ১৪টি বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে রাস্তা প্রশস্তকরণ

162

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রামে হাইভোল্টেজ বিদ্যুত্ লাইনের ১৪টি খুঁটি রেখেই রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। খুঁটিগুলোকে ঘিরেই সড়ক প্রশস্তকরণের খোঁড়াখুঁড়ি, ইট, বালু, খোয়া বিছানো ও রাস্তার কার্পেটিং-এর কাজ করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রাস্তার মাঝেসহ আশপাশে থাকা এসব খুঁটি যে কোনো সময় হেলে পড়তে পারে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

পাশাপাশি এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাত্রীসাধারণ ও যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কে থাকা সব ধরনের খুঁটি ৬০ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কিন্তু গোপালগঞ্জের কোথাও খুঁটি অপসারণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সড়ক বিভাগ খুঁটি অপসারণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এতে কোনো কাজ হয়নি। তাই রাস্তার ওপর বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সড়ক বিভাগের ঠিকাদার।

সড়ক বিভাগ আরো জানিয়েছে, প্রায় ৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রামে চৌরাস্তা বাস্তবায়ন করছে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

পথচারী জামিল মোল্লা বলেন, রাস্তায় বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ করা হচ্ছে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি এ সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাসচালক শাহজাহান বলেন, এখান দিয়ে জাতীয় বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন চলে গেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুত্ সরবরাহ লাইন রয়েছে। এলোমেলো অবস্থায় রাস্তার মাঝে ও এখানে সেখানে বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। এগুলো না সরিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা দ্রুত বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নিতে আবেদন করছি।

গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. মো. শরিফুল আলম বলেন, সড়কের ওপর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নেয়নি। আমরা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে রাস্তার কাজ করছি। ইতিমধ্যে ঐ সড়কের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যুত্ বিভাগ খুঁটি সরিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করছি। গোপালগঞ্জ বিদ্যুত্ বিভাগের (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশীদ এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এমনকি এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলে তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। তিনি এ নিয়ে বারবার সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments