চলনবিলে নেই পানি, নেই মাছ

203

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আষাঢ় মাস, ভরা বর্ষা মৌসুম। পানিতে ভরপুর থাকার কথা থাকলেও চলনবিলজুড়েই নেই কোন পানির চিহ্ন। এসময় চলনবিল থাকে তার চিরচেনা রূপ ধারণ করে। সেই সঙ্গে জেলেরাও থাকে মহাআনন্দে। ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পরে জেলেদের জালে। কিন্তু পানির অভাবে এখন অলস সময় পার করছেন তারা। নেই পানি, নেই কোন মাছও। অনাহারে অর্ধাহারে কাটছে তাদের জীবন।

আষাঢ়-শ্রাবণ মিলে বর্ষা ঋতু। আর বর্ষা মানেই মুসলধারে বৃষ্টি, চলনবিলের খালবিলে পানি থৈ থৈ করে ডুবে থাকা। এ যেন এক চিরচেনা দৃশ্য। অথচ আজ আষাঢ় মাসের ১৭ দিন, এই মাঝ বর্ষাতেও মিলছে না বৃষ্টি ও চলনবিলের খালে পানি। হতাশ হয়ে পরেছেন চলনবিল অঞ্চলের জেলেরা। পানি না থাকলে তারা মাছ ধরবে কিভাবে। হতাশাগ্রস্ত চলনবিলের জেলেদের দেখা যায় বাড়িতে বসে বসে পানির অপেক্ষা করছে। কখন পানি আসবে, কখন মাছ ধরবে।

চলনবিল অঞ্চলের নদীতে জোয়ারের পানি থাকলেও নেই খাল-বিলে। তারপরও নেই বৃষ্টি। তীব্র তাপমাত্রায় জন-জীবন অতিষ্ঠ। এক সময় বর্ষা মৌসুম আসলেই চলনবিল পানিতে টইটুম্বুর হয়ে যেত। জেলেরা মেতে থাকতো মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরতে। মিলতো নানা প্রজাতির মাছ। সেই মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে আবার দেশ-বিদেশে রপ্তানি হতো। হাসি খুশিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বচ্ছলভাবে দিন কাটাইতো তাদের। কিন্তু প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে জেলেদের মুখে নেই হাসি। পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন মহা সংকটে। কিভাবে চলবে তাদের সংসার। এদিকে নেই কোন সরকারি বেসরকারি অনুদানও। তাদের সংশয় দ্রুত চলনবিলে পানি না আসলে দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে হবে তাদের।

চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা অঞ্চলের জেলে মো. আফজাল হোসেন বলেন, এক সময় আমাদের চলনবিলে পানি থৈ থৈ করতো। কিন্তু এখনও মাঝ বর্ষাতেও আমরা কোন বৃষ্টি ও পানি পাচ্ছি না। বর্ষার আগেই আমরা মাছ ধরার জন্য খেয়া জাল, জাকই জাল, ধুন্দি, চাঁই, দোয়ার, পলো, বর্ষিসহ সকল ধরনের যন্ত্র তৈরি করে রাখি। কেননা বর্ষার আগমন হলেই শুরু হয় আমাদের মাছ ধরার কাজ। আর সেই মাছ ধরেই চলে তাদের জীবন জীবিকা। বছরের অন্য মৌসুমে অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চলে তাদের। বর্ষা মৌসুমে এসেই শুরু হয় তাদের মাছ ধরার কাজ। স্থানীয় বাজারসহ দেশজুড়ে চলে মাছ কেনা বেচার কাজ। এখানে বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু মাঝ বর্ষার হলেও চলনবিলে পানি আসেনি। তাই তারা এ বিষয়ে চিন্তিত। কারণ মাছ বিক্রি করেই তাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসারের যাবতীয় খরচ যোগাতে হয়। সময়মত পানি না আসায় হতাশাগ্রস্ত তারা। যত দ্রুত চলনবিলে পানি আসবে, ততই তাদের মঙ্গল। তাছাড়া না খেয়ে থাকতে হবে পরিবার পরিজন নিয়ে।

গুরুদাসপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবীর জানান, দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিতভাবে চলনবিলের খাল বিল ব্যবহার করায় আজ এই অবস্থা চলনবিলের। তারপরও এবারের বর্ষাতেও কোন বৃষ্টি নেই বললেই চলে। মাঝ বর্ষার সময় হলেও এখন বর্ষার পানির কোন আনা গোনা নেই। তবে বর্ষা সময় মত না হলে চলনবিলের জেলেরা সংকটের মধ্যে পড়ে যাবে। আমাদের পক্ষ থেকে জেলেদের সকল ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বর্ষার পানি আসলেই জেলেদের এই দুর্ভোগ থাকবে না।

আস/এসআইসু

Facebook Comments