নদীকে বিলীন নয়, জীবিকার উৎস করা হবে

201

আলোকিত সকাল ডেস্ক

অতীতের সরকারের মতো নদীকে বিলীন করা হবে না, বরং নদী হয়ে উঠবে মানুষের জীবিকার উৎস। এমন মন্তব্য করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ঢাকার দুই গুরুত্বপূর্ণ নদী তুরাগ এবং বুড়িগঙ্গা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীর নাব্যতা ও পরিবেশ হারিয়ে যেতে বসেছে।

শনিবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বুড়িগঙ্গার তীরের খোলামোড়া ঘাট এলাকায় আয়োজিত নদী রক্ষা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় সীমানা পিলার ও আনুষাঙ্গিক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীর নাব্যতা না থাকার কারণেই সামান্য পাহাড়ি ঢলে সারা দেশ ডুবে যাচ্ছে। তাই এসব নদীকে রক্ষা করতে হবে, নদী খনন করতে হবে। বুড়িগঙ্গা-তুরাগে এমন একটি পরিবেশ হবে, যেখানে মানুষের জীবিকার উৎস হবে এই নদীগুলো।

তিনি বলেন, নদীর তীরভূমি দখল মুক্ত করতে অব্যাহত উচ্ছেদ অভিযানে নদীর জায়গায় ৪৮টির বেশি মসজিদ পাওয়া গেছে। প্রথমে মসজিদ নির্মাণ করে জায়গাগুলোকে দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে নদী দখলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, কোন সরকারি জায়গায় অথবা বিতর্কিত জায়গায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা মসজিদ করার অনুমতি দেয়নি ইসলাম ধর্ম।

বুড়িগঙ্গাকে দখলমুক্ত করতে জনগণের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী । একই সঙ্গে দখলদারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে খালিদ মাহমুদ বলেন, নদী দখলমুক্ত করতে যারাই বাধা দেবে, তাদেরকে কোনভাবেই রেহাই দেয়া হবে না। ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা তোমার আমার ঠিকানা, এটা ছিল একসময় আমাদের পরিচয়। কিন্তু আমাদের সেই পরিচয় হারিয়ে যেতে বসেছে, আমাদের বুড়িগঙ্গা নদী শুকিয়ে গেছে, হারিয়ে যাচ্ছে। নদী দখলের ব্যাপারে রাষ্ট্র পূর্বে কোন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, তাই নদীগুলোতে দখল করেছে, সাথে সাথে আমাদের পরিচয় পর্যন্ত বেদখল হয়েছে। ‘৭৫ পরবর্তী জিয়া, এরশাদ, খালেদা সরকার লুটপাট করেছে, নদী দখলে সহযোগিতা করেছে। আমরা সেই নদীকে দখলমুক্ত করব।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর এম মাহবুব-উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যা হাজী মো. সেলিম, ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. কামরুল ইসলাম, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল সালাম, পরিবেশবিদ সৈয়দ আবুল মকসুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধুই বুড়িগঙ্গা নদী নয়, সব নদী দখলমুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ও নির্দেশে এই কাজ অবশ্যই এগিয়ে নেয়া হবে। ‘বুড়িগঙ্গা হবে আনন্দ বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু, আমাদের টেমস নদী দেখার জন্য লন্ডন যেতে হবে না, বুড়িগঙ্গা গেলেই হবে। ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের মধ্যে ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের কাজ শেষ হবে বলে তিনি জানান।

দখলদারদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি নদী দখল করার চিন্তা করেন তাহলে ভুল করবেন। এখন আগের সরকার নয়, এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। দখলের চেষ্টা করলে যথাযথ বিচার করা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments