নিজ দেশে পরবাসী

212

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আজ ৩০ জুন সাওতাল বিদ্রোহ দিবস। নিজেদের অধিকার আদায়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬৪ বছর পূর্ণ হলো। ১৮৫৫ সালের এ দিনে ব্রিটিশ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা যুদ্ধ শুরু করেছিল মা-মাটিকে রক্ষা ও নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো প্রায় দেড় বছর যুদ্ধ শেষে পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল তাদের।

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা সাঁওতালরা যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিবসটি পালন করবে। তবে যে অধিকার আদায়ের জন্য সাঁওতালরা রক্ত দিয়েছিল সে অধিকার এখনও আদায় হয়নি। এখনও নিজ দেশে পরবাসী বলেন মনে করেন সাঁওতালরা।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলার চা বাগানগুলোতে সাঁওতালদের বসবাস। তারা ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের চেতনা এখনও লালন করে দিবসটি পালন করে। তাদের প্রত্যাশা যে অধিকার আদায়ের জন্য তাদের পূর্ব পুরুষ রক্ত দিয়েছিল সেই অধিকার একদিন আদায় হবেই।

হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোতে কাজ করে ৩০ হাজার সাঁওতাল। মাত্র তাদের ১২০ টাকায় মজুরি, আবার অনেকের কাজ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ এদেশের কৃষির পাশাপাশি চা শিল্পের গোড়াপত্তন হয়েছিল সাঁওতালদের শ্রমের মাধ্যমে। সাঁওতালরাই প্রথম জঙ্গল কেটে বন সাফ করে জনপদ গড়ে তোলে। মাটিকে বাসযোগ্য করে তোলার পাশাপাশি তারা এলাকায় চা শিল্প ও কৃষিজ পণ্য ধান, ভুট্টা, নানা ধরনের সবজি আর সোনালী ফসল চাষের গোড়াপত্তন করে। এখনও তারা নিরবচ্ছিন্ন শ্রম দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে চা শিল্প।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চানপুর চা বাগানের শ্রমিক ও বাংলাদেশ আদীবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলার সভাপতি স্বপন সাঁওতাল জানান, সাঁওতালরাই এ উপমহাদেশে পতিত জমি ও জঙ্গল পরিস্কার করে কৃষির প্রচলন করে। ব্রিটিশ আমলে এ দেশে যে চা শিল্প গড়ে উঠে তা সাঁওতালদেরই পরিশ্রমের ফসল। কিন্তু কোনো সময়ই

সাঁওতালরা তাদের অবদানের স্বীকৃতি ও অধিকার পায়নি। আমরা ছিলাম ভারতের উড়িশ্যা প্রদেশের সাঁওতাল পরগনার বাসিন্দা। ভারত-বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যে সাঁওতালরা রয়েছেন তারা অত্যন্ত সহজ সরল। আমরা চাই আমাদের শ্রমের যেন সঠিক মূল্যায়ন হয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments