বাংলাদেশের ব্যাটিং বনাম ভারত-পাকিস্তানের বোলিং

267

আলোকিত সকাল ডেস্ক‍

ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ। অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাল ভারতের পক্ষে আওয়াজ তুলছিলেন টাইগার সমর্থকরা। ইংল্যান্ড হারলে টিকে থাকবে বাংলাদেশের আশা। ইংলিশরা জিতলে সেমির পথটা হয়ে যাবে পিচ্ছিল। সেমিফাইনালের রাস্তাটা পিচ্ছিল হয়ে গেল বাংলাদেশের। ধোনি-কেদার যাদবদের রহস্যজনক আচরণে ম্যাচটা হেরে গেছে ভারত। আর কারো দিকে তাকিয়ে নয়, বাকি পথটুকু টাইগারদের একাই চলতে হবে। জিততেই হবে পরের দুই ম্যাচ।

ভাগ্যের ওপর কারো নাকি জোর চলে না। এটাই শোনা যায়, ভাগ্য সাহসীদের পক্ষেই থাকে। তামিম-সাকিবেদর এখন সাহস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ায় সময়। বাকি যা হবার তা তো হবেই। চলুন,আমরা বাংলাদেশের পরবর্তী দুটি ম্যাচের দিকে নজর দেই। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ২ জুলাই, প্রতিপক্ষ ভারত। আর শেষ ম্যাচটা ৫ জুলাই পাকিস্তানের বিপক্ষে। এই দুইটা ম্যাচ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। শেষ দুটি ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা প্রতিপক্ষের বোলাররা। এবারের আসরে বোলারদের ওপর ভর করেই নিজেদের তরী পার করছে ভারত ও পাকিস্তান।

আলোচনাটা শুরু করা যাক বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দিয়ে। এবারের আসরে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং হাইলাইটস দেখলে ঘুরে ফিরে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ছবিটাই ভেসে আসে। এই দুজনের ব্যাট এতোটাই দুত্যি ছড়াচ্ছে যে,তামিম,মাহমুদউল্লাহ,লিটন দাসদের খুঁজে পেতেই কষ্ট হচ্ছে। ৬ ম্যাচে ৯৫ গড়ে ৪৭৬ রান করেছেন সাকিব। দুটি শতক ও তিনটি অর্ধশতকের পাশাপাশি বল হাতে ১০ উইকেট। বাকিদের আড়াল করতে আর কি লাগে! ৬ ম্যাচে ৩২৭ রান মুশফিকের। সমান সংখ্যক ম্যাচে তামিমের রান ২০৫ ও মাহমুদউল্লাহর রান ১৯০। এই চারজন রানে থাকলে জয়ের রসদ তৈরি করতে আর কী লাগে!

ভারত ও পাকিস্তানবে বধ করতে হলে শেষ দুই ম্যাচেও জ্বলে উঠতে হবে টাইগার ব্যাটসম্যানদের। সেই সাথে এই দুই ম্যাচে রানে ফিরতে হবে সৌম্য সরকারকেও। টাইগার ব্যাটসম্যানদের রান তোলার চাকাটা সচল থাকলে ভারত ও পাকিস্তানের বোলারদের যথেষ্ট বেগ পেতে হবে একথা বাজি ধরেই বলা যায়!

এবার প্রতিপক্ষ শিবিরে দৃষ্টি ফেরানো যাক। মোহাম্মদ শামি, যশপ্রীত বুমরাহ,যুবেন্দ্র চাহাল ও কুলদ্বীপ যাদব। বলতে গেলে আসরে আগুনে ফর্মে রয়েছেন ভারতীয় বোলাররা। তিন ম্যাচেই শামি নিয়েছেন ১৩ উইকেট। অবিশ্বাস্য সুইং ও গতিতে ব্যাটসম্যানদের নাকাল করে চলেছেন তিনি। শামির গড়টা জানলে অবাক হবেন ৯.৬১! তামিম-সৌম্যদের ভালোই বিব্রত করবেন ভারতীয় এই পেসার। ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে শামিকে নিয়ে কোহলি বলেছেন,’এবারের মতো ক্ষুধার্ত আমি শামিকে আর কখনও দেখিনি।’ক্ষুধার্ত এই নেকড়েটাকে সামলাতে হবে তামিম-সাকিবদের।

যশপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। ডেথ ওভারে তার চেয়ে ভালো বোলার এই মূহূর্তে আর একজনও নেই। আসরে ৬ ম্যাচে ২৪ গড়ে নিয়েছেন ১০ উইকেট। প্রতি ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৪.৪৪ রান। কমপক্ষে ৮ উইকেট নিয়েছেন এমন বোলারদের মধ্যে ওভারপ্রতি বুমরাহর চেয়ে কম রান খরচ করেননি আর কোনো বোলার।

ভারতীয় স্পিনারদের কথাটা আলাদা করেই বলতে হচ্ছে। শামি-বুমরাহদের ধ্বংসযজ্ঞে মধ্যেও ১৫ উইকেট নিয়েছেন চাহাল ও কুলদ্বীপ। এর মধ্যে ১০ উইকেটই চাহালের। এবারের আসরে স্পিনারদের মধ্যে চাহালের চেয়ে বেশি উইকেট নেননি আর কোনো স্পিনার। ১০ উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও ইমরান তাহির। পেসারের স্বর্গভূমিতে চাহাল কিন্তু ঠিকই ত্রাস ছড়াচ্ছেন। কুলদ্বীপের উইকেট সংখ্যা কম হলেও প্রতি ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের কিন্তু ঠিকই চাপে রেখেছেন তিনি। বাকি থাকলো হার্দিক পান্ডিয়া। বল হাতে আহামরী কিছু করতে না পারলেও পান্ডিয়ার যে সেই সামর্থ্য আছে তা তো সবারই জানা।

ভারতকে থামাতে হলে দলটির বোলিং ডিপার্টমেন্টকে ভড়কে দিতে হবে। ব্যাটিং করলে স্কোরে কমপক্ষে ৩০০-৩২০ রান থাকা চাই। রানটা এর চেয়ে কম হওয়া যাবে না। কারণ এবারের আসরে সাকিব-সাইফুদ্দিন-মুস্তাফিজরা ১০ উইকেট করে পেলেও রান খরচায় যথেষ্ট উদারতা দেখিয়েছেন।

এবার আসা যাক পাকিস্তানের বোলিং বিভাগের দিকে। মোহাম্মদ আমির, শাহিন আফ্রিদি ও ওয়াহাব রিয়াজ। ভাবুন,১৫০ কিমি গতির একেকটা গোলা ছুটে আসছে। সেই সাথে সমান তালে ইয়র্কার ও রিভার্স সুইং পাচ্ছেন আমির ও ওয়াহাব। ৭ ম্যাচে ইতিমধ্যে ১৬ উইকেট নিয়েছেন আমির। প্রতি ম্যাচে বাহাতি এই বোলার যেন পূর্ণউদ্যমে মাঠে নামছেন আর ব্যাটসম্যানদের শাসন করছেন। গেইল, কোহলি, রোহিত, ওয়ার্নারের মতো ব্যাটসম্যানরা তার বলে হাঁসফাস করেছেন।

পুরনো বলে ওয়াহাব রিয়াজের চেয়ে ভয়ঙ্কর বোলার বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে আর একজনও নেই। দুর্দান্ত রিভার্স সুইং পাচ্ছেন তিনি। সেই সাথে তার ইয়র্কার ও বাউন্সার ব্যাটসম্যানদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক ম্যাচ বাদ পড়া শাহিন আফ্রিদি ফিরেছেন তুমুল ছন্দ নিয়ে। ৪ ম্যাচে এই পেসার নিয়েছেন ১০ উইকেট। স্পিনে শাদাব খান ছন্দে না থাকলেও ফর্মে ফিরেছেন ইমাদ ওয়াসিম। সেই সাথে পাকিস্তান দলে রয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজ ও হারিস সোহেলের মতো অলরাউন্ডার। রান তুলতে ঘাম ঝড়াতে হবে যে কোনো দেশের ব্যাটসম্যানকেই।

পাকিস্তানকে হারাতে হলে ব্যাটিংয়ে ২৮০-৩০০ রান হলেই চলবে। অকার্যকর করে দিতে হবে আমির-রিয়াজদের। দলটির স্পিনারদের মনোবল ভেঙে দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেদিন দায়িত্বটা বোলারদেরও নিতে হবে।

পেছনে তাকানোর আর সময় নেই। দৃষ্টি এখন থাকা চাই সেমিফাইনালে। ইংল্যান্ড যদি পরের ম্যাচটা জিতে নেয়, নিক। তাতে আমাদের সমস্যা নাই। ভারত ও পাকিস্তানকে পরের দুটি ম্যাচে হারানো চাই। বাকি হিসাব পরে দেখা যাবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments