ব্ল্যাংক চেক দিয়েও সিনেমায় নিতে পারেনি: সারিকা

5

দেশবার্তা নিউজ: পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিলো। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেলো। বন্ধুদের পরামর্শে শুরু করেন মডেলিং। ২০০৬ সালে ‘ডিজুস’ এর বিজ্ঞাপন দিয়ে শুরু।প্রথম বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে রীতিমত বাজিমাত করেন। এরপরই বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনের মডেল হন এবং ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত হন। একের পর এক বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে দর্শকপ্রিয়তা পান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন অসংখ্য বিজ্ঞাপন ও নাটকে। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে অর্জন করেছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। মাঝে ব্যক্তিগত জীবন ও নানা কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত হলেও এখন আপন মনেই কাজ করে চলেছেন। বলছিলাম জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সারিকা সাবরিনের কথা। ‘হার্ট টু হার্ট’ নাটকের শুটিং সেটে কথা হয় তার সঙ্গে। সেই আলাপচারিতার কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো…

প্রথমেই জানতে চাই ‘হার্ট টু হার্ট’ নাটকটি প্রসঙ্গে…

‘হার্ট টু হার্ট’ নাটকটি পরিচালনা করেছেন বি ইউ শুভ। গল্পটা অনেক ইন্টারেস্টিং, যার কারণে কাজটি করতেও ভালো লেগেছে। এ কাজটির মাধ্যমে অনেক দিন অপূর্ব’র সঙ্গে কাজ করেছি। আমাদের শেষ কাজটাও শুভ’র ই ছিলো ‘প্রিয় বাবা মা’।

২ বছর পর অপূর্ব’র সঙ্গে কাজ করলেন। তার সঙ্গে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা এবং বোঝাপড়াটা কেমন?

২ বছর না ঠিক, ২০১৯ এর শেষের দিকে আমরা কাজ করেছিলাম। সেদিক থেকে দেড় বছরের একটু বেশি হবে। অপূর্ব’র সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অবশ্যই খুব ভালো। ওর সঙ্গে তো আজকে থেকে না, অনেক বছর ধরেই কাজ করে এসেছি। এক কথায় বলতে গেলে, আমি ওর সঙ্গে কাজ করতে একটি বেশিই পছন্দ করি সবসময়।

অভিনেতা অপূর্বকে নিয়ে আসলে বলার কিছুই নেই। সে যখন অভিনয় করে আমি এখনো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি। তার সঙ্গে কাজ করলে অনেক কিছু শেখা যায়। হি ইজ এক্সট্রা অরডিনারি, বেয়ন্ড গুড। ওর এক্সপ্রেশন, অভিনয় দুর্দান্ত। আমি ওর অভিনয়ের বিশাল বড় ভক্ত।

আর ব্যক্তি অপূর্ব’র কথা যদি বলি, আমরা অনেক বছর ধরেই সহকর্মী। এর বাইরেও আমরা দুজন ভালো বন্ধু। হি ইজ অ্যা ওয়ান্ডারফুল পার্সন। খুবই কুল একটা ছেলে। খুবই পজেটিভ মাইন্ডের মানুষ। এক কথায়, হি ইজ অ্যা ম্যান অব পজেটিভিটি।

ঈদে প্রচারিত হওয়া কাজগুলো প্রসঙ্গে জানতে চাই। কেমন সাড়া পেয়েছেন?

ঈদে খুব সম্ভবত আমার কাজ গিয়েছে ১৮/২০টির মতো আর ৭ পর্বের দুইটি ধারাবাহিক নাটক। সবগুলো কাজ আমার নিজেরও দেখা হয়ে ওঠেনি। তবে ‘জমজ ১৪’ নাটক থেকে অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি, মোশাররম করিম ভাইয়ের সঙ্গে। তাহসানের সঙ্গে ‘কম খরচে ভালোবাসা’ এবং চঞ্চল ভাইয়ের সঙ্গে ‘ভাড়ুয়া’; এগুলো থেকে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। শুধু এই তিনটাই নয়, এবার মোটামুটি অনেকগুলো কাজ থেকেই ভাল সাড়া পেয়েছি। আমি অনেক গ্রেটফুল। দর্শকরা এতটা ভালোবাসা প্রকাশ করায়।

এখন সবাই ভিউয়ের দিকে ঝুঁকছে। একটা প্রতিযোগিতা চলছে বলা যায়। কন্টেন্ট এর ক্ষেত্রে ভিউ কোনো ফ্যাক্ট বলে মনে করেন কি?

আমাকে এই প্রশ্ন করা মানে, ভুল মানুষকে ভুল প্রশ্ন করা। কারণ, এই ভিউয়ের বিষয়গুলো আমি একদমই বুঝিনা। ভিউয়ের ভালো বা খারাপ; এই জায়গাটা আমি এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। আমি কোনো ধরণের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করিনা আর এসবের খবরও রাখিনা। এটা একটা প্রচারের মাধ্যম। যখন একটা কাজ অনেক দর্শক দেখে, সেটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। কিন্তু আমি এই মাধ্যমটাতে নেই। আমি কাজকে ভালোবাসি, শুধু মনোযোগ দিয়ে কাজটাই করি। আমার কথা হচ্ছে, ভালো কাজ হোক, কাজটাই করে যেতে চাই।

মাঝখানে অনেকটা সময় বিরতিতে ছিলেন। বিভিন্ন কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। অনেকের অভিযোগ ছিলো আপনাকে নিয়ে। সেই বিষয়গুলো কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন কি?

আমার মনে হয় এটা অন্যান্যরা ভালো বলতে পারবে। আমি এখন শুধু মনোযোগ দিয়ে আমার কাজটা করে যাচ্ছি।

এখন যদি জানতে চাওয়া হয়, আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? সেক্ষেত্রে কী বলবেন?

যদি এরকম হয় তাহলে বলবো, এখন আমার খুব বেশি চাওয়ার নেই। এখন যেভাবে কাজ করে যাচ্ছি, দর্শকদের ভালোবাসা যেভাবে পাচ্ছি দশ বছর পরেও যেন এই ভালোবাসাটা পাই, এটাই চাওয়া।

জুটিপ্রথা বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

জুটি তৈরি হয় কিন্তু দর্শকদের কারণেই। দর্শকরা কাজ পছন্দ করেন বলেই জুটির বিষয়টি আসে। আর এটা তো যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। এটাতে আমি নেগেটিভ কিছু দেখি না।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেকের সঙ্গে কাজ করেছেন, এখনো করছেন। একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে কখনো কাউকে কি প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে হয়েছে?

এরইকম কিছুই না। সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে কিছু বলার মত যোগ্যতা আমার নেই। আর এখন যারা কাজ করছে তারা সবাই অনেক ভালো করছে। আমার কাছে এই শব্দটাই নেগেটিভ মনে হয়। আমি আমার কাজগুলো দেখার পর বলি, ইশ! এই কাজটা যদি আরেকতু ভাল করতে পারতাম! যতদিন কাজ করবো ততদিন চেষ্টা করে যাবো যে, আগের কাজগুলোর চেয়ে আমার সামনের কাজগুলো যেন ভাল হয়। সবসময় নিজেকে ইম্প্রুভ করার চেষ্টা থাকে। সেদিক থেকে বলতে পারেন, নিজের সাথে নিজেরই প্রতিযোগিতা।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সিনেমায় দেখা যায়নি কেন আপনাকে?

হাজারোবার এ কথা বলেছি আমি। হ্যাঁ, আগে না করতাম কিন্তু বেশ কয়েকবছর ধরে সিনেমা নিয়ে আমি ওপেন মাইন্ডেড। এখন ভালো ভালো সিনেমা হচ্ছে। ভালো কোনো সিনেমার প্রস্তাব পেলে আর ব্যাটে-বলে মিললেই তবে সিনেমা করবো। এরমধ্যে যেসব সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি সেগুলো দেখে করার মতো মনে হয়নি। এত বছর যেহেতু করিনি, তাই হুট করে যেকোনো একটা কিছুতে কাজ করতে চাইনা। করলে অবশ্যই ভালো কিছু করবো। যেটা দেখার পর মনে হবে যে, এটা আমাকে করতেই হবে; তখনই সিনেমা করবো। সত্যি বলতে, যেরকম সিনেমার জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম সেরকম প্রস্তাব পাইনি।

এখন পর্যন্ত অজস্র সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি, সব ফিরিয়ে দিয়েছি। আমাদের ঘরানার, এফডিসির ঘরানার থেকেও অনেক অনেক প্রস্তাব পেয়েছি। এমনো হয়েছে যে, অনেক পরিচালক ব্ল্যাংক চেক দিয়েও বলেছেন যে, সিনেমাটা করো কিন্তু আমি করিনি। তখন আমি একদম স্ট্রেইট না বলে দিয়েছি। আমার কোন ইচ্ছাই ছিলো না।

Facebook Comments Box