শাবান হচ্ছে রমজানের প্রস্তুতির মাস জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ান

7

দেশবার্তা নিউজ:শাবান মাসের অনেক ফজিলত। শাবান মাস হচ্ছে রমজান মাসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসে অধিক হারে রোজা রাখতেন। আজ বিভিন্ন জামে মসজিদের খুৎবাপূর্ব বয়ানে পেশ ইমামরা এসব কথা বলেন। যথযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগরীর মসজিদগুলোতে প্রচুর মুসল্লির সমাগম ঘটে। মসজিদে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় আগত মুসল্লিদের রাস্তার ওপর জুমার নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি এহসানুল হক জিলানী আজ জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানুল মোবারকের জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন রজব মাস থেকেই। যখন রজব মাসের চাঁদ উদয় হতো তখন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন “হে আল্লাহ আমাদেরকে রজব মাসে বরকত দিও শাবান মাসেও বরকত দিও আর রমজান পর্যন্ত আমাদেরকে পৌঁছে দিও”। আর যখন শাবান মাস আসতো সাহাবায়ে কেরামকে বলতেন, “রমজানের স্বার্থে তোমরা শাবান মাসের দিনগুলি ভালোভাবে গণনা করো কয় দিন গেল আর রমজান আসতে কয়দিন বাকি থাকলো”। তিনি এসব কথা কিসের জন্য বলতেন যাতে করে মানুষ রমজানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। রমজান আসার পূর্বে এমন ভাবে কাজ-কর্ম গুটিয়ে নিতে পারে যেন রমজানের ইবাদত গুলি আদায় করতে কোন ঝামেলা না হয়। এই রকম পরিকল্পনা গ্রহণ করাকে শরীয়তের পরিভাষায় “মুশারাতা” বলা হয়। পরিকল্পনা বা মুশারাতার সাথে মুজাহাদা থাকা চাই। মুজাহাদা বলা হয় ত্যাগ, সাধনা, মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করাকে। মনে চায় না তবুও করা যেমন রমজানুল মোবারকের রোজা রাখা সারা দিন উপবাস থাকা এটা মনের চাহিদার বিরুদ্ধে আমরা আল্ল¬াহর হুকুমকে প্রাধান্য দেয়ার জন্যই রোজা আদায় করছি। এজন্যই আল্ল¬াহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারীমের মাঝে ইরশাদ করেন, “যারা আমার পথে মেহনত মোজাহাদা শুরু করে দেয় অবশ্যই আমি তাদের জন্য আমার পথ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেই “। আল¬াহ তায়ালা আমাদেরকে রমজানুল মোবারকের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেয়ার এবং হক আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমীন!

দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা রেজাউল করিম আজ জুমার বয়ানে বলেন, সূরা মুমিনুন এর ১১৫ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি মানুষকে অনর্থক সৃষ্টি করিনি। মানুষকে এক বিশাল সুমহান দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কোরআনে কারীমের সূরা আয যারিয়াত এর ৫৬ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি মানুষকে আমার একমাত্র ইবাদত এর জন্য সৃষ্টি করেছি এবং সূরা বাকারার ৩০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি খেলাফত তথা শাসন কর্তৃত্ব করার জন্য। সূরা নূরে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা করেছেন যে তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসন কর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসন কর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ. করবেন তাদের ধর্মকে যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, তোমরা একমাত্র আমারই ইবাদত করো এবং আমার সাথে কাউকে শরিক করিও না। পরের আয়াতে আল্লাহ তায়ালা কিছু মৌলিক ইবাদতের কথা বলেছেন, নামাজ কায়েম করো যাকাত প্রদান করো রাসুলের আনুগত্য করো। খতিব বলেন, সূরা ইমরান ১০২ নাম্বার আয়াত আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা মুত্তাকী হয়ে যাও মুত্তাকী হওয়ার মত এবং একমাত্র ইসলামী তথা কোরআনী জাতীয়তায় ঐক্যবদ্ধ হও বিচ্ছিন্ন হয়ো না এবং তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হবে যারা সৎ কাজের আদেশ দিবেন এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবেন। তাহলে আল্লাহ তায়ালা সাহাবায়ে কেরাম (রাদি.) এর মত শাসন কর্তৃত্ব দিবেন। আমাদের সকলকে এ কথাগুলো মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন!
ঢাকা ডেমরা দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো.মনিরুল ইসলাম আজ জুমার বয়ানে বলেন, শাবান মাসের অনেক ফজিলত। শাবান মাস হচ্ছে রমজান মাসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের মাস। সাহাবায়ে কেরামগণ এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী শুরু করে দিতেন। হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসে অধিক হারে রোজা রাখতেন। হযরত উসামা (রাদি.) রাসুলুল্লাহ সাল্লালামকে জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসুলুল্লাহ শাবান মাসে আপনি যত রোজা রাখেন অন্য মাসে আপনি এতো রোজা রাখেন না? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ইরশাদ করলেন : রজব ও রমজান মাসের এই শাবান মাস ; যে মাসের ব্যাপারে মানুষ গাফেল থাকে। এই মাসে মানুষের (বাৎসরিক আমল) আল্লাহর দরবার উঠানো হয়। আমি চাই যে, আমার আমলনামা আল্লাহর দরবারে এমন অবস্থায় পৌঁছাক যে আমি রোজাদার। তাই আমাদেরও উচিৎ এ মাসে বেশি বেশি রোজা রাখা ও রমজান মাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমীন! ঢাকার উত্তরা সেক্টর-৩ মসজিদ আল মাগফিরাহ এর খতিব মুফতি ওয়াহিদুল আলম আজ জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে বলেন,

আজ ১৪৪২ হিজরীর শাবান মাসের ৪ তারিখ। শাবান মাস একটি মোবারক মাস। বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী (সা.) রমজান মাস ব্যতীত অন্য সকল মাসের তুলনায় শাবান মাসে বেশি রোজা রাখতেন। এ মাসের প্রথম থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত এবং কখনো কখনো প্রায় পুরো মাসই নবী (সা.) রোজা রাখতেন। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নবী (সা.) কে এ মাসে রোজা রাখার প্রতি এতো গুরুত্ব প্রদানের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন, এ মাসে আল্লাহ তায়ালার কাছে মানুষের আমল উঠানো হয়। আর আমি ভালবাসি যে, আমি রোজাদার অবস্থায় আমার আমল উঠানো হোক। (নাসায়ী) খতিব বলেন, এমাসের মধ্যে অতিব গুরুত্বপূর্ণ রাত হলো শবে-বরাত, যে রাতে আল্লাহ তায়ালা গুনাহগার মুসলমানদের নিজ দয়ায় ক্ষমা করেন। শবে-বরাতের মূল শিক্ষা হলো র্শিক, বিদ’আত ও হিংসা-বিদ্বেষ হতে আতœাকে পবিত্র রাখা, কবর যিয়ারত করা, দোয়া করা, নফল নামাজ আদায় করা ও রোজা রাখা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে নবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর মতো নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন!

Facebook Comments Box