সুযোগ পাচ্ছে বঞ্চিত ৩০ হাজার শিক্ষার্থী

303

আলোকিত সকাল ডেস্ক

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেও ভর্তি হতে না পারা ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। ভর্তি বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে।

শিক্ষাবোর্ডগুলো আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিভিন্ন কলেজে এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি নেবে। তবে এর জন্য আর অনলাইনে আবেদন করতে হবে না। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা যায়, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট তিন ধাপে আবেদন নেয় বোর্ডগুলো। কিন্তু আবেদন করার পরও কলেজে ভর্তি হতে পারেনি ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী।

ফলে ভর্তি হতে না পারার শঙ্কা নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ জানিয়েছেন অনেকেই। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের কথা চিন্তা করে এবং ঝরে পড়ারোধে তাদের ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ডগুলো।

এদিকে ভর্তি হতে না পারা একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তাদের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও কলেজে গিয়ে ভর্তি হতে পারছে না।কলেজ কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে তাদের ভর্তি নিশ্চায়ন করা হয়নি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু কামাল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীর কথা হয় আমার সংবাদের সাথে।

তিনি বলেন, ৬টি সরকারি কলেজসহ মোট ১০টি কলেজ ভর্তির জন্য নির্বাচন করেছি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কলেজেই ভর্তি হতে পারিনি।

আরিফা জাহান নামের এক ভর্তিচ্ছু বলেন, কয়েকদিন ধরে ভর্তি হতে পারবো কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে।

তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলেছে চিন্তা না করতে। ১০টি কলেজ নির্বাচন করার পরও কোথাও ভর্তির সুযোগ পাইনি।

সর্বশেষ তালিকায়ও কলেজ আসেনি। বোর্ডের আশ্বাস পেলেও ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত দুশ্চিন্তা কাটছে না।

ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের নজর থাকে প্রথম সারির কলেজগুলোর দিকে।

তবে পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেকে আবেদন করেও ভর্তির সুযোগ পায়নি। তবে তারা সবাই শূন্য আসনগুলোতে ভর্তি হতে পারবে।

জানা গেছে, জিপিএ ও পাসের ভিত্তিতে এবার কলেজগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।

গত বছর ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে এ, বি ও সি- এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়।

৬৫০ শিক্ষার্থী ও পাসের হার যদি ৭০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে সেই কলেজ ‘এ’ ক্যাটাগরির।

৬০০ শিক্ষার্থী ও পাসের হার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ থাকলে তা হবে ‘বি’ ক্যাটাগরির। আর ৬০০ এর কম শিক্ষার্থী এবং পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকা কলেজগুলো হবে ‘সি’ ক্যাটাগরির।

বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, আবেদনের ক্ষেত্রে সব শিক্ষার্থী শুরুতেই ‘এ’ ক্যাটাগরির কলেজগুলো নির্ধারণ করে।

কিন্তু সেসব কলেজের আসন পূর্ণ থাকায় তারা সুযোগ পান না। শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে আবেদন করলে এ সমস্যা হতো না।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, কলেজগুলোর শূন্য আসনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আগামী ৮ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। যারা ভর্তি হতে চায় তাদের সবাইকে ভর্তির ব্যবস্থা করব। জুলাই মাসব্যাপী ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে।

এ বছর এসএসসি পাস করা ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর কাছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন চাওয়া হয়।

গত ২৩ মে কলেজে ভর্তি আবেদনের শেষ দিন পর্যন্ত ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য মোট আবেদন করে প্রায় ১৪ লাখ ভর্তিচ্ছু।

এদের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করেন ১০ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি এবং এসএমএসের মাধ্যমে তিন লাখ ৬৫ হাজারের বেশি।

শুধু ঢাকা বোর্ডেই তিন লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ভর্তিচ্ছু আবেদন করেন। পরে ১৯ ও ২০ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়।

২১ জুন রাত ৮টার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। ২২ ও ২৩ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের সিলেকশন নিশ্চায়ন করা হয়।

২৪ জুন রাত ৮টার পর থেকে তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়। সকল প্রক্রিয়া শেষে ২৭ থেকে ৩০ জুন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

পরে পহেলা জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments