রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের মতো উপসর্গে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে অন্তত ৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি যে মৃত্যুর কারণ সরাসরি অ্যানথ্রাক্স কিনা।
উপজেলার পীরগাছা ও পারুল ইউনিয়নের মৃত দুই ব্যক্তি হলেন আবদুর রাজ্জাক (৪৫) এবং কমলা বেগম (৬০)। স্থানীয়দের মতে, কিছুদিন আগে অসুস্থ গবাদিপশু জবাই ও সেই মাংস ব্যবহারের পর থেকে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয়ভাবে অসুস্থ গরু জবাই করে তার মাংস খাওয়ার ঘটনাগুলো। রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি গরু জবাইয়ের সময় আঙুল কেটে ফেলেন, এরপর থেকেই তার শরীরে সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয় এবং তিনি মারা যান। একইভাবে, আরেকটি ঘটনায় অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে বা প্রক্রিয়াকরণে অংশ নেয়া আরও কয়েকজন আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে একজন নারী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, শুরুতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় রোগটি বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন, কারণ উপজেলা পর্যায়ের সাড়া যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে, প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, মাঠপর্যায়ে তারা কাজ করছেন এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সংস্থা আইইডিসিআর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালাচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, যারা হাসপাতালে আসছেন, তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।