উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে হঠাৎ ঘন কুয়াশার চাদর নেমে এসেছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পুরো জেলা যেন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে। এতে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই দুর্বল হয়ে পড়ে দৃশ্যমানতা।
কয়েক হাত দূরত্বেও কিছু দেখা যাচ্ছিল না, যার ফলে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট চালিয়ে পথ চলতে হয়। অনেকেই ভাবেন, বুঝি শীত আগেভাগেই দরজায় কড়া নাড়ছে। তবে তখনও আবহাওয়ায় তাপমাত্রা ছিল অপেক্ষাকৃত উষ্ণ। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো ফিরে আসে এবং ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যায়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল্লাহ রিপন বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি চারপাশ একেবারে সাদা কুয়াশায় মোড়া। এরকম কুয়াশা সেপ্টেম্বরে আগে কখনও দেখিনি।”
টুনিরহাট এলাকার এক অটোচালক আব্দুর রহিম জানান, “ভোরে অটো নিয়ে বের হই, কিন্তু কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালালেও সড়কের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।”
চাকলাহাটের বাসিন্দা শাহিনুর ইসলাম বলেন, “এতটা ঘন কুয়াশা সাধারণত নভেম্বর মাসে দেখা যায়। এখনই যদি এমন হয়, তাহলে শীত কী এবার একটু আগেভাগেই আসছে?”
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, কুয়াশার মূল কারণ হলো মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তা। তিনি বলেন, “এটা দীর্ঘস্থায়ী নয়। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কুয়াশা কেটে যায়। এটি শীতের পূর্বাভাস হিসেবেও ধরা যেতে পারে।”
তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল ৬টা ও ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন ছিল ২৪.৮ ডিগ্রি, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। আজকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।