June 4, 2026, 12:01 pm | Converter

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে জলাবদ্ধতা, বিমানবন্দর এলাকাও অচল

Deshbarta Report
  • Update Time : Monday, September 22, 2025,

রাতভর একটানা ভারী বৃষ্টির ফলে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে অফিসমুখী মানুষসহ সাধারণ নাগরিকদের পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও জলাবদ্ধতা থেকেই গেছে।

বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের সামনে সৃষ্টি হয়েছে হাঁটুসমান পানির স্তর, যার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। একাধিক গাড়ির ইঞ্জিন পানিতে ডুবে গিয়ে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকে সড়কে।

এক যাত্রী হাবিবুর রহমান বলেন, “দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানের এমন দুরবস্থা হলে অন্য জায়গার অবস্থা সহজেই অনুমেয়। বিদেশি বা প্রবাসী যাত্রীরাও এখানে এসে সমস্যায় পড়ছেন। এটা প্রায়ই হচ্ছে, অথচ কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।”

একই সমস্যায় পড়েন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ফ্লাইট ধরতে আসা এক যাত্রীকে নিয়ে বিমানবন্দরের দিকে আসার সময় তার সিএনজির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রী তখন গাড়ি থেকে নেমে হাঁটু পানি ভেঙে প্রবেশ করেন টার্মিনালে। রফিকুল বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে বারবার আটকে পড়তে হচ্ছে আমাদের, অথচ কোনো সমাধান হচ্ছে না।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশকোনা হজ ক্যাম্প থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চলমান টানেল নির্মাণের কারণে ড্রেনেজ লাইনগুলোর একটি বড় অংশ কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে বৃষ্টি হলেই ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যদিও কাজটি সিভিল অ্যাভিয়েশনের অধীনস্থ, কিন্তু পানি নিষ্কাশন নিয়ে তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া কয়েক মাস আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বিমানবন্দর রেলস্টেশন সংলগ্ন আশকোনা রেলগেট এবং আশেপাশের উন্নয়নকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় জলাবদ্ধতা রোধে সিভিল অ্যাভিয়েশন, রেলওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও সিটি করপোরেশন একসাথে কাজ করবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

শুধু বিমানবন্দর নয়, বৃষ্টিতে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত। এর সঙ্গে বাড়তি দুর্ভোগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ যানজট। ডিএনসিসি জানিয়েছে, তারা শহরের জলাবদ্ধ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কাজ শুরু করেছে। এরইমধ্যে কালশি রোডে জলাবদ্ধতা নিরসনে现场 পরিদর্শন করেছেন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এবিএম সামসুল আলম। তবে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় পূর্বপ্রস্তুতির কারণে এবার কোনো জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে ডিএনসিসি।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মুখপাত্র রাসেল রহমান বলেন, বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি ওয়ার্ডে ডিএসসিসির কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

তিনি আরও জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হওয়া সম্ভাব্য লঘুচাপের কারণে রাজধানীতে আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলেও অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, সিটি করপোরেশন পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

More..
Archive
© All rights reserved © deshbarta.ca 2025

Developer Design Host BD