June 4, 2026, 3:54 am | Converter

পুলিশ জনগণের সেবক, কোনো দলের পাহারাদার নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Deshbarta Report
  • Update Time : Sunday, January 18, 2026,

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়; তারা জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন অনেকাংশে মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভরশীল। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল বলপ্রয়োগ করে শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণ।

দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি একটি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং মানুষের আস্থা নষ্ট করে দেয়। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে। অন্যায় নির্দেশ বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে নানা চাপ ও সমালোচনা আসতেই পারে, কিন্তু সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম থাকলে কোনো কিছুই দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। আজ যারা প্রশিক্ষণ শেষ করলেন, তারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ পুলিশ। জনগণের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে দুর্নীতি ও পক্ষপাতমুক্ত, মানবিক ও সাহসী পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী বিপিএম।

এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএসের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম, ৩৫তম, ৩৬তম, ৩৭তম ও ৪০তম বিসিএস থেকে মোট আরও ৯ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মন্ডল। বেস্ট প্রবেশনার নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান মো. মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড পান মো. সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটারের স্বীকৃতি পান সালমান ফারুক।

সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপাররা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়িত হবেন।

More..
Archive
© All rights reserved © deshbarta.ca 2025

Developer Design Host BD