দীর্ঘ ১২ বছর পর সারা দেশে অনুষ্ঠিত হওয়া অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫–এ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কোনো না কোনো বিষয়ে অনুপস্থিত ছিল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ঢাকা বোর্ডের অধীনে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিল ৮৭ হাজার ৯৪৯ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮০ হাজার ২১৮ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৩১ জন বা ৮ দশমিক ৮ শতাংশ পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার হার শতভাগ নয়। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৭৭ হাজার ৯১৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে পরীক্ষায় অংশ নিলেও সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়নি এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩০ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।
এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ঢাকা বোর্ডের অংশগ্রহণসংক্রান্ত এই তথ্য প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সারা দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত তথ্য এখনো সংগ্রহ করা হয়নি।
কোন বোর্ডে কত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বোর্ডের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ৪৩ হাজার ৬৬০ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
কুমিল্লা ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সমান। কুমিল্লা বোর্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ৪০ হাজার ২১৯ জন (১১ দশমিক ৬০ শতাংশ) এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৪০ হাজার ২৩১ জন শিক্ষার্থী (১১ দশমিক ৬১ শতাংশ)। এই দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২৩ শতাংশের বেশি।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ৩৮ হাজার ৬৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ২৯ হাজার ৫ জন শিক্ষার্থী, যা প্রায় ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, নতুন ও অপেক্ষাকৃত ছোট বোর্ডগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ২৩ হাজার ২০০ জন (৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ) এবং সিলেট বোর্ডে ২৩ হাজার ২২ জন (৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ)। এই দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর অংশ প্রায় ১৩ শতাংশের বেশি।
সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী ছিল বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ২০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ।