April 21, 2026, 2:49 pm | Converter

নেপালের সরকার উৎখাত : অস্থিরতার শেকল ভাঙবে কবে?

তানভীর ইউসুফ রনী, সম্পাদক, দেশবার্তা
  • Update Time : Wednesday, September 10, 2025,

নেপাল একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন এক অনিবার্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। বারবার সরকার পরিবর্তন, জোট ভাঙন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আজ নেপালকে এক চক্রবৎ অচলায়তনে আবদ্ধ করেছে। সাম্প্রতিক সরকার উৎখাত সেই ধারাবাহিক অস্থিরতারই নতুন অধ্যায়।

রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর নেপালের জনগণ যে স্থিতিশীল গণতন্ত্রের প্রত্যাশা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। প্রায়শই দেখা যায়, সংসদীয় দলগুলোর মধ্যে আস্থা হারানোর কারণে সরকার ভেঙে পড়ছে। ক্ষমতার পালাবদল হয়তো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ, কিন্তু এত ঘনঘন সরকার পরিবর্তন দেশের প্রশাসনিক গতি, নীতি প্রণয়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

সরকার পতনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর বিভাজন এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক শক্তিধর রাষ্ট্র ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা। একদিকে ভারত ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের কারণে নেপালে প্রভাব বজায় রাখতে চায়; অন্যদিকে চীন অবকাঠামো ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটিকে নিজের কূটনৈতিক বলয়ে টানতে আগ্রহী। এই দুই শক্তির মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে নেপালের রাজনৈতিক দলগুলো আরও জটিল অবস্থায় পড়ে যায়।

অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। কর্মসংস্থান সংকট, বিদেশমুখী যুবসমাজ, অবকাঠামো উন্নয়নে স্থবিরতা এবং পর্যটন খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ক্রমাগত। জনগণ বারবার আশা করে একটি স্থিতিশীল সরকার আসবে, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আশা ভেঙে যায়।

এখন প্রশ্ন হলো—কবে থামবে এই অস্থিরতা? নেপালের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর পরিণত মনোভাবের উপর। ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে যদি তারা জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে দেশটি উন্নয়নের পথে ফিরতে পারবে। অন্যথায় বারবার সরকার উৎখাতের নাটক চলতেই থাকবে, আর নেপালের জনগণকে এর মূল্য দিতে হবে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দিয়ে।


More..
Archive
© All rights reserved © deshbarta.ca 2025

Developer Design Host BD